রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।। পিইসি পাসের প্রসংসা সনদ বাবদ জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের নিকট অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ থানার ২ নং সোনারায় ইউনিয়নে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের পড়া,হাতের লেখা ও সব কিছুতেই একসময় ছিল জাদুর ছোঁয়া৷ এর পিছনে ছিলেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম। নুরুল আলম প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের পর পাল্টে যায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের চিত্র।জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিদ্যালয়টি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম অবসরে যাওয়ার পর শুরু হয় শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যত অনিয়ম আর দুর্নীতি

গত বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে আনুমানিক ১১০ জন শিক্ষার্থী পিইসিতে অংশগ্রহণ করে। পিইসি পাস করে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে হওয়ার পর, উপবৃত্তির তালিকায় নাম আসতে সনদপত্র ও প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক সমাপনী পরীক্ষার পাসকৃত প্রশংসাপত্র আবশ্যক।

দেশের সব প্রতিষ্ঠানে প্রশংসাপত্র বিনামূল্যে সরবরাহ করলেও প্রতিষ্ঠানটি, প্রশংসাপত্র জন প্রতি বিনা রশিদে ২ শত টাকা ফি আদায় করছেন বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। অনেক গরিব শিক্ষার্থী টাকা দিতে না পেয়ে সংগ্রহ করতে পারছে না প্রশংসাপত্র।এদিকে গরীব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বাবদ সরকার দিচ্ছে উপবৃত্তির টাকা।ফলশ্রুতিতে তাদের উপবৃত্তির তালিকায় নাম আসা নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ার মতো।হতাশায় আছে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

এ স্কুল থেকে পিইসি পাস করা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শাহিদা বেগম, ইলিয়াস হোসেন, আ:রশিদ মিয়া, নুরুন্নবী মিয়া,রফিকুল ইসলাম, শাহিন ইসলাম, আয়শা বেগমসহ মোট ১৬ জন অভিভাবক বলেন, আমাদের ছেলে- মেয়েরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ।করোনাকালে আমাদের আর্থিক অবস্থা ঢিলাঢালা। এমনিতেই আমদের নুন আনতে পানতা ফুড়ায়।সরকার আমাদের মতো পরিবারকে উপবৃত্তির টাকা দেবে এটা আমরা প্রত্যাশা করছি৷ কিন্তু প্রসংসাপত্র বাবদ জোরপূর্বক টাকার অংক এনে “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” বসাচ্ছে বর্তমান প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন। মজার ব্যাপার হলো টাকা লেনদেনের বিষয়টি অবগত ছিলেন না বিদ্যালয়ের সভাপতি।

৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির পর উপবৃত্তির তালিকায় নাম আসতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রশংসাপত্র দাখিল করা আবশ্যক। কিন্তু রুহুল আমিন প্রশংসাপত্র বাবদ ফি ২ শত টাকা নির্ধারণ করেছেন। টাকা নিলেও কোনো রশিদ দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিভাবকগণ ।
প্রশংসাপত্র নতুন প্রতিষ্ঠানে জমা না দিলে উপবৃত্তির তালিকায় নাম বাতিল করা হবে। ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত সকল অভিভাবক।

শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন(০১৭৪০৯৪৫৩২১)এ কল করা হলে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, দুইশত টাকা নয়, মাত্র ১০০/১৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে প্রশংসাপত্র বাবদ। তবে রশিদ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেন নি।সরকারি প্রতিষ্ঠানের সনদ বাবদ ফি নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো তৈরি করতে অনেক খরচের দরকার হয়৷ তাছাড়া প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন উল্টো প্রশ্ন করেন,কোন স্কুল এ সনদ বাবদ টাকা নেয় না?, আপনি আমাকে দেখান। তিনি আরো বলেন সব প্রতিষ্ঠান নেয়।আমি আরো প্রতিষ্ঠানে এ পদে ছিলাম।সেখানে তো এত ঝামেলা হয় নি। শুধুমাত্র এ এলাকার লোকজন ন্যারো মাইন্ডের।

ভুক্তভোগী অভিভাবকগণ নিরুপায় হয়ে বিদ্যালেয়র সভাপতি শহিদুল ইসলাম এর কাছে মৌখিকভাবে বিষয়গুলো অবগত করান৷ সভাপতি শহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যান এবং টাকা নেয়ার সরকারি কোনো বৈধতা আছে কি/ না জানতে চান৷ তখন সভাপতি শহিদুল ইসলামকে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের নির্দেশে টাকা নেয়া হচ্ছে। আপনি সভাপতি হিসেবে একজনের সুপারিশ করতে পারেন৷ তাহলে আমি বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানাবো৷ পরে সভাপতি শহিদুল ইসলাম কয়েকজন শিক্ষার্থীর টাকা দেয়ার দৃশ্য ভিডিও করে শিক্ষার্থীর অভিভাবকও সভাপতি এবং সহ-সভাপতি মিলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷ প্রসংসা পত্র সনদের টাকা লেনদেনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।উল্লেখ্য যে ইতো পূর্বে স্লিপের টাকা গিলে খাওয়াসহ  অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। কিন্তু এখনো তার কোনো সুফল মেলে নি৷

অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি এটিএম রেজাউল করিম জানান,জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানটি এভাবে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।এর আগেও রুহুল আমিনেের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তার খুঁটির জোর কোথায়?এটা আমার জানা নেই। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুষ্ঠ সমাধান আজো মিলছে না।তবে প্রশাসন একটু সুনজর দিলে শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয় আবারো আগের রূপে ফিরে আসবে।

শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭০৬৭০৭৫৮০) বলেন, ঘটনাটি আমি শুনে নিজেই তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সম্বলিত স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।তিনি আরো বলেন,  শিক্ষা খাতের বিভিন্ন অর্থ গিলে খেয়েছেন রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম হারুন অর রশিদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। প্রশংসাপত্রের বিপরীতে কোনো অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। এ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

By admin

One thought on “শিক্ষা খাত গিলে খাওয়ার আরেক নাম সুন্দরগঞ্জের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *